কিভাবে মোবাইল অ্যাপ বানিয়ে টাকা আয় করা যায় | How to Earn Money from Mobile App in Hindi With Pritam Datta

Earn Money with Mobile app
Spread the love

কিভাবে মোবাইল অ্যাপ বানিয়ে অর্থ উপার্জন করা যায়, এটা কি, কিভাবে এটি তৈরি করা হয়, মোবাইল অ্যাপ বানানোর পদ্ধতি, মোবাইল অ্যাপ বানিয়া কি করে উপার্জন করবেন সব কিছু আমরা এই আর্টিকেল এ আপনাদের কে জনাব| (Mobile App Kaise Banate Hai, Earn Money, Creator, development, Download, Company in Bangla)

ইন্টারনেট আজ বিশ্বের প্রথম পছন্দ, কারণ আজকাল বেশিরভাগ কাজই হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এরকম অনেক অ্যাপ, প্রতেক দিন মানুষেরা সময়ে সময়ে তৈরি করছে, যার কারণে মানুষের বেশিরভাগ কাজ তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। যেমন ফ্লিপকার্ট এবং অ্যামাজন অ্যাপ থেকে কেনাকাটা করা, জোম্যাটো বা সুইগি অ্যাপ থেকে খাবারের অর্ডার দেওয়া, পেটিএম বা ফোনপি অ্যাপের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা বা মোবাইল রিচার্জ করা, Uber ও ওলা অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাক্সি বুক করা, আজকাল সব নিউস পেপার কোম্পানি রা নিজেদের অ্যাপ বানিয়া রেখেছে যার ফলে আপনি যেখানেই যান খবর শুনতে আর পড়তে পারবেন। এরকম আরো অনেক কাজ আছে যা মোবাইলে উপস্থিত অ্যাপের মাধ্যমে মানুষ খুব সহজেই করতে পারে। যারা এই অ্যাপটি তৈরি করছে তারা আজ কোটি কোটি উপার্জন করছে। আপনি যদি অনুরূপ অ্যাপ তৈরি করে অর্থ উপার্জন করতে চান, তাহলে আমাদের এই নিবন্ধটি আপনাকে সাহায্য করবে।

কিভাবে অ্যাপ থেকে টাকা আয় করা যায়

অ্যাপ বানানোর আগে আপনার জানা উচিত কিভাবে অ্যাপ থেকে আয় করা যায়। আপনার জন্য এটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আর affiliate মার্কেটিং এর মাধ্যমে করা হয়। সমস্ত ডেভেলপার যারা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস আর IOS অ্যাপ তৈরি করে, তাদের অ্যাপ তৈরির পর, তারা নিজেদের বিজ্ঞাপন প্রদানকারী কোম্পানিতে সাইন আপ করে। সেখান থেকে তারা একটি অ্যাপ কোড পায়, তারা তাদের তৈরি করা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে সেই কোড যোগ করে। তারপর তাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে বিজ্ঞাপন শো হতে শুরু করে। এবং এখান থেকে অ্যাপ ডেভেলপারদের উপার্জনও শুরু হয়। মানুষ যত বেশি সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে, তারা তত বেশি সুবিধা পাবে। এইভাবে মানুষ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করে অর্থ উপার্জন করে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরির প্রক্রিয়া

আপনি জানেন কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ থেকে অর্থ উপার্জন করতে হয়, এখন দেখা যাক কিভাবে আপনি একটি অ্যাপ তৈরি করবেন। এর আগে, আপনার জানা উচিত যে একটি অ্যাপ তৈরি করা খুব জটিল কাজ নয়, আপনি সহজেই এটি তৈরি করতে পারেন, এবং উপার্জন করতে পারেন। আজকের সময়ে, ইন্টারনেটে এমন অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেখান থেকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করা খুব সহজ হয়ে গেছে। আমরা নীচে আপনাকে এই তথ্য দিচ্ছি।

  • https://www.appypie.com/
  • https://thrive.app/ অথবা theappbuilder.com
  • https://appsgeyser.io/
  • www.thunkable.com
  • www.gamesalad.com
  • www.infinitemonkeys.mobi

এই প্ল্যাটফর্মগুলির যে কোনও একটি ব্যবহার করে, আপনি খুব সহজেই আপনার নিজস্ব অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। এর জন্য, আপনাকে কেবল এই প্ল্যাটফর্মগুলির একটিতে গিয়ে সাইন আপ করতে হবে। এবং এর পরে আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করা শুরু করতে পারেন। এবং সেই android অ্যাপ থেকে আপনি ইন্টারনেট থেকে অর্থ উপার্জন শুরু করবেন। এখানে আপনার মনে রাখা উচিত যে এই প্লাটফর্ম গুলি থেকে আপনি যে অ্যাপ বানাতে পারবেন তা একটি সাধারণ অ্যাপ হবে কিন্তু পায়সা ইনকাম করার জন্যে একদম সঠিক অ্যাপ কিন্তু আপনি যদি খুব বড় মাপের অ্যাপ বানাতে চান যেমন আমাজন অথবা zomato এর মতন তখন আপনাকে একজন ডেভেলপার সঙ্গে যোগাযোগ করে বানাতে হবে। আপনি যদি কোডিং করতে ভালবাসেন তাহলে কি ভাবে অ্যাপ বানাতে হয় তা আপনি চাইলে ইউটুব থেকে অথবা অনেক ফ্রি আর পেইড কোর্স আছে যেখান থেকে আপনি android অ্যাপ বানানো শিকতে পারবেন।

অ্যাপ ডেভেলপারদের সাহায্য নিন

আপনি যদি এই কাজটি নিজে করতে না চান, তাহলে আপনার জন্য আরেকটি বিকল্প আছে, আপনি নিজের জন্য অ্যাপটি তৈরি করতে পেশাদার অ্যাপ ডেভেলপারদেরও নিয়োগ করতে পারেন। আপনি যে যেরকম অ্যাপটি চান, তারা আপনাকে সেইরকম অ্যাপ বানিয়ে দিতে সক্ষম। আপনি যে কোন ব্রাউজারে সার্চ করে আপনার কাছাকাছি থাকা অ্যাপ ডেভেলপারের নাম এবং ঠিকানা সার্চ করে অ্যাপ ডেভেলপারের তথ্য পাবেন। আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজাইন করা অ্যাপটি পেতে পারেন। অথবা আজকাল অনেক অনলাইন ওয়েবসাইট আছে যেখান থেকে আপনি অ্যাপ ডেভেলপার দের সাথে যোগা যোগ করতে পারবেন. সেই রকম ওয়েবসাইট এর মধ্যে ফ্রীলান্সার এবং upwork অন্যতম . আপনি যদি facebook ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অনেক facebook group আছে যেখান থেকে আপনি অ্যাপ ডেভেলপার দের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন . এটা মনে রাখবেন যে যেকোনো ধরনের অ্যাপ বানানোর জন্যে ডেভেলপার রা নুন্যতম ৫০০০ টাকা থেকে শুরু করে আরও অনেক বেশিচার্জ করতে পারেন যদিও এটি আপনার অ্যাপের গুণমান এবং নকশার উপর নির্ভর করবে।

অ্যাপ ডিজাইন করার পর কি করতে হবে

যেমনটি আমরা আপনাকে আগেই বলেছি যে আপনি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অ্যাপ থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এই জন্য, আপনাকে Ads প্রদানকারী কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তাই আসুন আমরা আপনাকে বলি যে এই ধরনের অনেক বিজ্ঞাপন প্রদানকারী কোম্পানির নাম কিভাবে আপনি ইন্টারনেট থেকে পাওয়া যাবে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনাকে সাইন আপ করতে হবে। এবং এর পরে যে বিজ্ঞাপন কোডটি আপনাকে দেওয়া হবে তা আপনার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে রাখতে হবে। এর পরে আপনার অ্যাপে বিজ্ঞাপন আসতে শুরু করবে। আপনাকে সাহায্য করার জন্য আমরা এখানে সেরা বিজ্ঞাপন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম দেখিয়ে দিচ্ছি।

  • অ্যাডমব (google এর তরফ থেকে )
  • ফেসবুক অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক (facebook এর তরফ থেকে )
  • appnext
  • adcolony
  • আপেলভলিন
  • bangal

আপনি এই বিজ্ঞাপন প্রদানকারী কোম্পানীর যেকোন একটিতে সাইন আপ করতে পারেন। তবে আমরা আপনাকে বলি যে আপনি যদি অ্যাডমব কোম্পানির বিকল্পটি বেছে নেন তবে এটি আরও ভাল হবে কারণ এটি একটি গুগল প্ল্যাটফর্ম। আর গুগল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানি। এর যেকোনো পণ্য বা প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণ মৌলিক এবং নিরাপদ। এমনকি অধিকাংশ মানুষ গুগলকে বিশ্বাস করে। অতএব, যদি আপনি এই বিকল্পটি বেছে নেন, তাহলে আপনি উপকৃত হবেন।

অ্যাপ বানানোর পর অর্থ উপার্জন করুন

আপনি আপনার অ্যাপ ডিজাইন করার পর, যদি মানুষ এর সম্পর্কে জানতে না জানতে পারে, তাহলে আপনি আয় করতে পারবেন না। এর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার অ্যাপটি যতটা সম্ভব মানুষের সাথে শেয়ার করুন। যাতে এর তথ্য তাদের কাছে পৌঁছায়। বিজ্ঞাপন দেখানো ছাড়াও, আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং রেফারেল মার্কেটিং এবং স্পনসরশিপের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আপনাকে যা করতে হবে তা হল আপনার অ্যাপকে কোন না কোন ভাবে প্রচার করা। যদি বেশি মানুষ ডাউনলোড করে এবং ব্যবহার করে, তাহলে আপনি আরও বেশি উপার্জন করবেন।

কত রকম ভাবে অ্যাপ থেকে টাকা রোজগার করা যেতে পারে?

মোটামুটি ভাবে বললে ৫ রকম উপায় অ্যাপ থেকে টাকা রোজগার করা যেতে পারে।

  1. এপ্লিকেশন এর ভেতরে এডভারটিসিমেন্ট দেখিয়ে।
  2. এফিলিয়াট মার্কেটিং করে।
  3. আপ্লিকেশন এর মাধ্যমে কিছু জিনিস পাত্র বিক্রি করে। আপনারা হয়তো ভাবেন এটা ভীষণ কঠিন কাজ কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে ইন্ডিয়া আর ফ্লিপকার্ট একসময় শুধু মাত্র বই বিক্রি করতো।
  4. আর প্রিমিয়াম এপ্লিকেশন গুগল প্লে স্টোরে এ পাবলিশ করে। প্রিমিয়াম এপ্লিকেশন মানে যেই এপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে এবং ব্যাবহার করতে প্রথমে টাকা দিতে হয়।
  5. আর সবথেকে ভালো হয় যদি আপনি নিজে আপ্লিকেশন বানানো শিখে নিতে পারেন তাহলে আপনি বাজার থেকে ক্লায়েন্ট ধরতে পারবেন আর একটা এপ্লিকেশন বানানোর জন্যে কম করে হলেও ৫ হাজার টাকা পাবেন।

অ্যাপটি প্রচার করুন

আপনার তৈরি করা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপকে প্রচার করতে হবে। এর জন্য, আপনি ফেসবুক গ্রুপে share করতে পারেন। কারণ facebook group এর সাথে অনেক মানুষ জড়িত। এই ছাড়াও, আপনি আপনার অ্যাপকে আরো কিছু সোশ্যাল মিডিয়া সাইট যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, টেলিগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রচার করতে পারেন।

ফটো এডিটিং থেকে টাকা কিভাবে কামায়- Photo Editing Business in Bangla

পয়সা লাগিয়ে আপনার অ্যাপ কে প্রমতে করা

বন্ধু দের সাথে আপনি কতshare করবেন ১০০ জনের কাছে share করলে হয়ত ১০, ২০ জন আপনার অ্যাপ ডাউনলোড করবে, অনেকে হয়ত আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে. তার থেকে ভালো আপনি এরকম কোনো মাধ্যম বেছে নিন যার মাধ্যমে আপনার সবাইকে বলতে হবে না আপনার অ্যাপ ডাউনলোড করার জন্যে কিন্তু সবাই ডাউনলোড করবে আর আপনার ইনকাম হবে .

সেটা হলো advertisement, আপনি আপনার অ্যাপ কে google এ প্রমোট করতে পারবেন google ads এর মাধ্যমে। কিন্তু তার জন্যে আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে কিন্তু এটা জেনে নিন আপনি যত টাকা লাগাবেন আপনার অ্যাপ কে promote করার জন্যে তার থেকে অনেক বেশি আয় আপনি করতে পারবেন আপনার অ্যাপ এর মাধ্যমে।

বিনিয়োগ ছাড়াই বিশ্বস্ত অনলাইন অর্থ উপার্জন ওয়েব সাইট

উপার্জনের পরে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পান

আপনি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের কারণে অর্থ উপার্জন করেছেন,অথবা আপনি হয়তো affiliate মার্কেটিং এর মাধ্যমে টাকা রোজগার করেছেন। কিন্তু এখন জানা দরকার যে আপনি কিভাবে আপনি এই অর্থ আপনার কাছে পাবেন। আমার মনে হয় এটা জানা সব থেকে জরুরি যে যেই টাকা আপনি আয় করেছেন সেটা কিকরে আপনি আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট এ পাবেন কারণ সেটা যদি না জানেন তাহলে আয় করে লাভ কি। আপনি যদি অ্যাডমব ব্যবহার করে থাকেন তবে আপনি যা আয় করেছেন তা আপনার এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রত্যেক মাসের ২১ তারিখের মধ্যে চলে আসবে। যদি এক দুই দিন দেড়ি হয় ভয় পাবেন না , আপনার টাকা আপনার কাছে অবশ্যৈ আসবে। কিন্তু আপনি যদি প্রথম বার গুগল এর তরফ থেকে টাকা পাওয়ার আশা করে থাকেন তাহলে আপনাকে ব্যাঙ্ক থেকে হয়তো ফোন আস্তে পারে অথবা আপনাকে ব্যাঙ্ক এ কন্টাক্ট করতে হতে পারে টাকা তা একাউন্ট এ ক্রেডিট করানোর জন্যে। কারণ এই টাকা গুলো ডাইরেক্ট ডলার এ আসে এবং ব্যাঙ্ক বুজতে পারে না কোথা থেকে টাকা এসেছে , তাই অনেক সময় টাকা টাকে হোল্ড করে দেয়। আর হয় তার আগে টাকা একাউন্ট এ পাবার জন্যে আপনাকে আপনার অ্যাডমব অ্যাকাউন্টে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিতে হবে। আপনার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ থেকে আপনি যে উপার্জন করেছেন তা প্রতিটি মাসের 21 থেকে 28 তারিখের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হবে।

আপনি যদি Flipkart, Paytm, Ola, Swiggy- এর মতো অ্যাপ তৈরি করে মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হন, তাহলে সেই দিন আর দূরে নয় যখন আপনি ঘরে বসে কোটি কোটি উপার্জন শুরু করবেন। তাই আপনার অ্যাপ বানানোর সময় মনে রাখবেন যে লোকেদের আপনার অ্যাপ পছন্দ করা উচিত।

কোটিপতি হওয়ার জন্য 2021 এর জন্য সেরা প্যাসিভ ইনকাম এর রাস্তা

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *