ক্রেডিট কার্ড কি । কিভাবে পাবো । ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড এর পার্থক্য । ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে সবকিছু

Credit card
Spread the love

আজকে আমরা কথা বলবো ক্রেডিট কার্ড সম্বন্ধে । খুব সহজ ভাবে যদি বোঝাতে যাই তাহলে ক্রেডিট কার্ড হলো ওই আলাদিনের জিনের মতো । যদি তুমি ওই জীন কে ভালো ভাবে নিজের ভালোরে জন্যে ব্যাবহার করতে পারো তাহলে তো তুমি ক্রেডিট কার্ড থেকে অনেক সুবিধা নিতে পারবে । কিন্তু যদি ক্রেডিট কার্ড কে তুমি ঠিক থাকে করে সামলাতে না পারো তাহলে কিন্তু ক্রেডিট কার্ড তোমার অনেক বারো খ্যতি করতে পারে । তাই তোমার কাছে যদি ক্রেডিট কার্ড থাকে অথবা ক্রেডিট কার্ড এর জন্যে আবেদন করার কথা ভাবছো তাহলে এই আর্টিকেল টি কিন্তু আগে পারে নিও।

Table of Contents

ক্রেডিট কার্ড কি ?

ক্রেডিট কার্ড হলো একটা প্লাষ্টিক বা মেটাল এর তৈরি একটা কার্ড যেটা তুমি ব্যাবহার করতে পারো যেকোনো জায়গা থেকে কিছু কেনা কাটি করার জন্যে এবং পেমেন্ট তুমি ক্রেডিট কার্ড থেকে করতে পারো । যেই ব্যাঙ্ক অথবা ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন আপনাকে ক্রেডিট কার্ড ইসু করেছে সেই ইনস্টিটিউশন আপনার ক্রেডিট কার্ড এ একটা টাকা খরচ করার লিমিট ধার্য্য করে দেয় । আপনি ওই ধার্য্য লিমিট এর ভেতরে থেকে আপনি টাকা খরচ করতে পারবেন । আপনি যে টাকা খরচ করছেন সেটার জন্যে আপনাকে ৫০ দিনের জন্যে কোনো রকম সুদ দিতে হয় না। কিন্তু ৫০ দিনের মধ্যে আপনি ওই billing cycle যত টাকা খরচ করেছেন সেই টাকা পুরো ফেরত দিতে হয় নাহলে ৫০ দিনের পারে আপনি জাত টাকা খরচ করেছেন সেটার উপর অনেক বেশি সুদ দিতে হবে।

ডেবিট কার্ড কি?

ডেবিট কার্ড হল ক্রেডিট কার্ড এর মতোই একটা প্লাস্টিক বা মেটাল কার্ড, যেটা থেকে তুমি পেমেন্ট যে কোনো জায়গায় পেমেন্ট করতে পারো এবং এই কার্ডটা লিংক করা থাকে তোমার সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে বা কারেন্ট ব্যাঙ্ক একাউন্ট এর সাথে। ক্রেডিট কার্ডে যেমন ব্যাংক থেকে তোমাকে পঞ্চাশ দিনের জন্য একটা লিমিট টাকা দেওয়া হয়, ডেবিট কার্ডে কিন্তু এরকম ৫০ দিনের জন্য কোন লিমিট টাকা দেওয়া হয় না। তোমার ব্যাংক একাউন্টে যত টাকা থাকবে সেই টাকাটাই শুধুমাত্র তুমি ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করতে পারবে। ক্রেডিট কার্ডে যেমন ৫০ দিনের মধ্যে যদি তুমি টাকা ফেরত না দাও, তাহলে তোমাকে সেটার উপর সুদ বসানো হয় কিন্তু ডেবিট কার্ডে কিন্তু এরকম কোন সুদ বসানো হয় না। তোমার একাউন্টে যদি পঞ্চাশ হাজার টাকা থাকে তাহলে তুমি পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট করতে পারবে এবং তুমি চাইলে তুমি সেই টাকা এটিএম মেশিন থেকে তুলতে পারবে।

ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য

Feature Credit CardsDebit Cards
টাকা খরচ করাক্রেডিট কার্ড এ ব্যাঙ্ক থেকে একটা লিমিট সেট করা থাকে।সেই লিমিটের মধ্যে তুমি টাকা খরচ করতে পারবে। কিন্তু billing cycle শেষ হওয়ার আগে তোমাকে টাকা ফেরত দিতে হবে ।ডেবিট কার্ড এর মাধ্যমে খরচ করার কোনো লিমিট থাকে না। ডেবিট কার্ড আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট সাথে লিংক থাকে। আপনার একাউন্ট এ যত টাকা আছে তত টাকা আপনি ডেবিট কার্ড দিয়ে খরচ করতে পারবেন।
ক্রেডিট হিস্ট্রিক্রেডিট কার্ড দিয়ে টাকা খরচ করলে আপনার একটা ক্রেডিট হিস্ট্রি এবং ক্রেডিট স্কোর তৈরি হয়। ক্রেডিট হিস্ট্রি অথবা ক্রেডিট স্কোর আপনাকে পরবর্তী সময় লোন নিতে সাহায্য করে। ডেবিট কার্ড দিয়ে টাকা খরচ করলে আপনার একটা ডেবিট হিস্ট্রি এবং ডেবিট স্কোর তৈরি হয় না।
পুরষ্কার এবং বিশেষত্বক্রেডিট কার্ড দিয়ে খরচ করার জন্যে আপনাকে পুরুস্কার হিসেবে ক্যাশব্যাক অথবা ডিসকাউন্ট দেয়া হয়ে থাকে ডেবিট কার্ড দিয়ে খরচ করার জন্যে আপনাকে কোনো রকমের পুরুস্কার দেয়া হয়ে না।
বাজেট কন্ট্রোল যদি ক্রেডিট কার্ড কে ভালো করে ব্যাবহার না করা হয় এবং নিজের ইনকাম এর থেকে বেশি খরচ করে দিলেন তাহলে এটার জন্যে financial crisis এ পরে যেতে পারেন । ডেবিট কার্ড এর সঙ্গে এরকম কোনো প্রব্লেম নাই । কারণ ডেবিট কার্ড এর মাধ্যমে আপনি তত তাকাই খরচ করতে পারবেন যত টাকা আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট এ আগে থেকে আছে।
গ্রহণযোগ্যতা ক্রেডিট কার্ড কে মোটামুটি সব জায়গায় transaction করার জন্যে একসেপ্ট করা হয়ে থাকে ।ডেবিট কার্ড কেও মোটামুটি সব জায়গায় transaction করার জন্যে একসেপ্ট করা হয়ে থাকে ।
বার্ষিক ফিস ক্রেডিট কার্ড এ কিন্তু বার্ষিক ফিস তাক্তেও পারে আবার নাও থাকতে পারে । এটা আপনি যেই ব্যাঙ্ক অথবা ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন এর ক্রেডিট কার্ড উসে করছেন তারা সিদ্ধান্ত করে ডেবিট কার্ড এ বার্ষিক ফিস থাকলেও ক্রেডিট কার্ড এর ফিস থেকে অনেক কম হয় থাকে।
ইন্টারেস্ট চার্জেস আপনি যদি খরচ করা টাকা বিলিং সাইকেল শেষ হবার আগে যদি ফেরত না দেন তাহলে আপনাকে ভালো রকম সুদের সম্মুখীন হতে হয়।ডেবিট কার্ড দিয়ে খরচ করলে এবং টাকা একাউন্ট ফেরত না রাখলে কোনো রকম সুদ দিতে হয় না

ক্রেডিট কার্ড কিভাবে পাবেন / পাওয়ার যোগ্যতা

বন্ধুরা তোমরা যদি ক্রেডিট কার্ডের জন্য এপ্লাই করতে চাও এবং ক্রেডিট কার্ড যদি পেতে চাও, তাহলে কিন্তু অনেকগুলো স্টেপস তোমাদেরকে ফলো করতে হবে। ওই স্টেপসগুলো যদি ঠিকঠাক ভাবে ফলো করতে পারো, তাহলে কিন্তু তুমি একটা ক্রেডিট কার্ড পেতে পারো। তো এই স্টেপস এবং প্রসেস মধ্যে তোমাকেও কতগুলো স্টেপস ফলো করতে হবে এবং যেই কোম্পানির বা যেই ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড তুমি নিতে চাইছ, সেই কোম্পানিও কিন্তু এই স্টেপস মধ্যে বা এই প্রসেসের মধ্যে ইনভল্ভ হবে। দুজনেরই স্টেপস এবং দুজনেরই প্রসেস যদি ঠিকঠাক কমপ্লিট হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু তুমি একটা ভালো ক্রেডিট কার্ড পেয়ে যেতে পারো।

১) ক্রেডিট স্কোর

বন্ধুরা তোমরা যখনই ক্রেডিট কার্ড এর জন্য এপ্লাই করতে যাবে, তখনই সবার প্রথমে যেই ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের জন্য তুমি এপ্লাই করছ, সেই ব্যাংক কিন্তু তোমার ক্রেডিট স্কোর করতে চেক করবে। ক্রেডিট স্কোর সম্বন্ধে যদি না জেনে থাকো আমি একটা আলাদা করে আর্টিকেল লিখেছি, ক্রেডিট স্কোর উপরে। সেটা তোমরা দেখতে পারো। যদি তোমার ক্রেডিট স্কোর ভালো হয়ে থাকে তাহলে কিন্তু তুমি ক্রেডিট কার্ডের জন্য এপ্লাই করতে পারবে। তো সবার প্রথম স্টেপ ক্রেডিট কার্ডের জন্য অ্যাপ্লাই করার সময় যে ব্যাংক বা ইনস্টিটিউশন এর ক্রেডিট কার্ড নিতে চাইছো তারা তোমার ক্রেডিট স্কোর চেক করবে এবং তুমি যদি তাদের required credit score criteria মধ্যে থাকো তাহলে তুমি ক্রেডিট কার্ড এর জন্যে এপলাই করতে পারবে ।

২) ক্রেডিট হিস্ট্রি

ক্রেডিটস স্কোর চেক করার পরে তোমার ক্রেডিট হিস্ট্রি চেক হবে। ক্রেডিট হিস্ট্রি মানে হচ্ছে তুমি এর আগে কোন জায়গা থেকে লোন নিয়েছো কিনা এবং লোন যদি নিয়ে থাকো তুমি সেটাকে সঠিক সময় ব্যাংকে আবার ফেরত দিয়েছে কিনা সুদ সমেত। তো এইটা কিন্তু ব্যাংকের কাছে তোমার যে প্যান কার্ড আছে, সেই প্যান কার্ডের সঙ্গে হিস্ট্রিটা যোগ হয়ে যায় এবং যেকোনো ব্যাংক যেকোনো সময় তোমার প্যান কার্ডের নাম্বার দিয়ে কিন্তু তোমার ক্রেডিট হিস্ট্রি বের করে নিতে পারে । তো এর আগে তুমি যদি কোন জায়গা থেকে কোনো রকমের লোন নিয়ে থাকো এবং সেটা যদি তুমি ঠিক সময় যদি ফেরত না দিয়ে থাকো এবং সুদ যদি ঠিক সময় ফেরত না দিয়ে থাকো, তাহলে কিন্তু তোমার ক্রেডিট হিস্ট্রি এবং ক্রেডিট স্কোর দুটোই খারাপ হয়ে যায় এবং যাদের ক্রেডিট হিস্ট্রি এবং ক্রেডিট স্কোর খারাপ থাকে তাদেরকে কিন্তু সাধারণত ব্যাংক এবং ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউটরা কোন রকমের লোন বা ক্রেডিট কার্ড দিতে চায় না।

৩) পছন্দের ক্রেডিট কার্ড বেঁচে নেওয়া

বন্ধুরা ক্রেডিট হিস্ট্রি এবং ক্রেডিট স্কোর চেক করার পরে তুমি যদি তাদের মিনিমাম ক্রেডিট স্কোর যা হওয়া উচিত ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্যে, সেটা যদি তোমার থাকে, তাহলে তারপরে তোমাকে অপশন দেওয়া হয় তুমি কোন ক্রেডিট কার্ডটি বেছে নিতে চাও। তো প্রত্যেকটা ব্যাংক এবং ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউট এর কাছে একের বেশি, অনেকগুলো ক্রেডিট কার্ড এর অপসন থাকে। নিজে নিজের পছন্দের মত মানুষেরা ক্রেডিট কার্ড কিন্তু বেছে নেয়। তোমার খরচাপাতির প্যাটার্ন এর ভিত্তি করে তোমাকে কিন্তু সাধারণত ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়ে থাকে এবং সেরকম ক্রেডিট কার্ডই তোমাকে ব্যাংকের লোকেরা সাজেস্ট করে। যাতে তুমি বেশি থেকে বেশি ফায়দা উঠাতে পারো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করে।

৪) অনলাইন অথবা ব্যাঙ্ক এ গিয়ে ক্রেডিট কার্ড এর জন্যে এপলাই করা

আপনি যখন নিজের পছন্দের ক্রেডিট কার্ডটি বেছে নিয়েছেন, এর পরের স্টেপ হচ্ছে ওই ক্রেডিট কার্ডটিকে এপ্লাই করার জন্য যা যা ডকুমেন্টস লাগবে এবং যা যা ইনফরমেশন লাগবে, সেই সেই ইনফরমেশন নিয়ে আপনাকে সেই ব্যাংক অথবা ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট এর কাছে যেতে হবে। আপনি চাইলে ফিজিক্যালি তাদের ব্যাংকে গিয়েও ক্রেডিট কার্ডের জন্য এপ্লাই করতে পারেন অথবা তাদের ওয়েবসাইটে অনলাইন এর মাধ্যমে কিন্তু এপ্লাই করতে পারেন। আমার নিজের যা এক্সপেরিয়েন্স তাতে আমি বলছি, যে গত দু-তিন বছরে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি কিন্তু এতটা বেশি অ্যাডভান্স হয়ে গেছে যে এখন আর তোমাকে ব্যাংকে গিয়ে, লাইন দিয়ে, সময়ে ব্যয় করে তোমাকে ক্রেডিট কার্ডের জন্য এপ্লাই করতে হবে না। তুমি ঘরে বসে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে কিন্তু ক্রেডিট কার্ড এর জন্য এপ্লাই করতে পারবে।

৫) ক্রেডিট কার্ড এর যা ডকুমেন্টস এবং ইনফরমেশন লাগবে তা ব্যাঙ্ক কে দেয়া

একটা ভালো ক্রেডিট কার্ড এপ্লাই করার জন্য কিন্তু ব্যাংক আপনার থেকে অনেক রকমের ডকুমেন্টস এবং ইনফরমেশন চাইবে।সবথেকে জরুরী ডকুমেন্টস হল ১) প্যান কার্ড ২) আধার কার্ড ৩) এড্রেস প্রুফ ৪) আপনার ইনকামপ্রুভ ৫) আপনি কোন কোম্পানিতে কাজ করেন ৬) আপনার বার্ষিক এবং মাসিক আয় কত ৭) আপনার আপনার গত দু থেকে তিন বছরের ইনকাম ট্যাক্স যে রিটার্ন ফাইল করেছেন সেটার ডকুমেন্টস। ব্যাংক আরও নিজের নিজের হিসেবে কিন্তু আরো অনেক কিছু ডকুমেন্টস চাইতে পারে এবং যা যা ডকুমেন্টস ব্যাংক আপনার থেকে চাইবে সেই সেই ডকুমেন্টস কিন্তু আপনাকে ব্যাংকে দিতে হবে। না হলে ক্রেডিট কার্ডের অ্যাপ্রুভাল আটকে যাবে এবং আপনি হয়তো ক্রেডিট কার্ডটি পাবেন না।

৬) সব ডুমেন্টস ব্যাঙ্ক এর দ্বারা ভেরিফিকেশন করা

বন্ধুরা এর পরের সব থেকে কঠিন কাজটা হচ্ছে যে আপনারা যে যে ডকুমেন্টস যে যেই ইনফরমেশন ব্যাংকে দিয়েছেন, সেই ইনফর্মেশন এবং সেই ডকুমেন্টস ব্যাংক ভেরিফাই করে দেখবে। ভেরিফাই করার পরে যদি কোন রকমের প্রবলেম তারা বুঝতে পারে অথবা কোন রকমের ইনফরমেশন যদি মিসিং থাকে, কোন রকমের যদি কিছু মিথ্যা কিছু যদি আপনি বলে থাকেন বা কোন রকমের কিছু মিথ্যা ডকুমেন্ট যদি আপনি দিয়ে থাকেন, তাহলে ব্যাংক সঙ্গে সঙ্গে তোমার ক্রেডিট কার্ডের অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ করে দেবে এবং আপনাকে হয়তো পার্মানেন্টলি ব্যান করে দিতে পারে ক্রেডিট কার্ডের জন্য এপ্লাই করার থেকে। তো সবসময় মনে রাখবেন ক্রেডিট কার্ড কিন্তু খুব একটা ভাইটেল জিনিস। এপ্লাই করার সময় আপনার যা যা সত্যি কারের ডকুমেন্টস এবং ইনফরমেশন দেবেন। কোন রকমের ভুল ইনফরমেশন বা ভুল ডকুমেন্টস কিন্তু দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ তারা কিন্তু অনলাইনে প্যান কার্ডের মাধ্যমে, তোমার ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে, তারা সবকিছু চেক করে তারপরেই তোমাকে ক্রেডিট কার্ড দেবে। 

৬) ক্রেডিট কার্ড approval এর জন্যে wait করা

ব্যাংক তোমার ডকুমেন্টস এবং ইনফরমেশন চেক করবে, সেটার জন্য কিন্তু ব্যাংক মোটামুটি ৩ থেকে ৫ দিন বা সাত দিন সময় নিতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে কিন্তু এটা ১০ দিন ১৫ দিনে হয়ে যায়। কিন্তু সাধারণত এটা তিন থেকে পাঁচদিনের মধ্যে হয়ে যায় এবং যখনই ব্যাংক বা ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট যেখান থেকে আপনি ক্রেডিট কার্ড নিচ্ছেন, সে যখনই আপনার ইনফরমেশন এবং ডকুমেন্টস ভেরিফাই করে দেবে, তারপরেই কিন্তু আপনি এসএমএস পেয়ে যাবেন মোবাইলে এবং ইমেইল পেয়ে যাবেন যে আপনার ক্রেডিট কার্ডের অ্যাপ্লিকেশন approve হয়ে গেছে। যতদিন না পর্যন্ত আপনার ভেরিফিকেশন হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আপনাকে ক্রেডিট কার্ডের অ্যাপ্রভালের জন্য ওয়েট করতে হবে।

৭) ক্রেডিট কার্ড বাড়িতে ডেলিভারি হওয়া এবং এক্টিভেট করা

ক্রেডিট কার্ড এপ্রুভাল এর মেইল এবং এসএমএস পাওয়ার পরে, মোটামুটি এক সপ্তাহের মধ্যে তোমার ক্রেডিট কার্ড তোমার নামে তোমার বাড়ির এড্রেসে ডেলিভারি করে দেওয়া হবে এবং তোমার বাড়িতে যখন ক্রেডিট কার্ডটি ডেলিভারি হয়ে যাবে, তখন তোমাকে ক্রেডিট কার্ড টি এক্টিভেট করে নিতে হবে। একটিভেট করার জন্য তিন চার রকমের প্রসেস থাকে। তুমি চাইলে ব্যাংক এটিএম এ গিয়েও এক্টিভেট করতে পারো। অনলাইন এ অথবা ফোন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে একটিভেট করতে পারো। একটিভেট করার যত রকমের পদ্ধতি আছে সেটা যখন তোমার বাড়িতে কার্ড টি ডেলিভারি হবে, তার সঙ্গে সেই প্রসেস গুলো কিন্তু কাগজে লেখা থাকবে এবং সেই কাগজ আপনাকে ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গেই আপনাকে পাঠানো হবে। তা আপনার যেটা সুবিধা বলে মনে হয় সেই সুবিধা অনুযায়ী আপনি আপনার কার্ড একটিভেট করে নেবেন।

৮) ক্রেডিট কার্ড কে দায়িত্বের সাথে ব্যাবহার করা

আপনি যখনই আপনার ক্রেডিট কার্ডটি এক্টিভেট করে নেবেন, তারপরে আপনার ক্রেডিট কার্ড আপনি যেমন চাই সেরকমভাবে ইউজ করতে পারবেন। সেটার কোন রেস্ট্রিকশন থাকবে না। কিন্তু আপনার ক্রেডিট কার্ড আপনি সবসময় দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করুন। আপনাকে প্রথমে যত টাকা লিমিট দেওয়া হয়েছে, সেই পুরো লিমিট কিন্তু খরচা করে দেবেন না। কারণ এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে ৫০ দিনের ভেতরে কিন্তু পুরো টাকাটা আপনাকে আমাকে ফেরত দিতে হবে। যদি কোন কারনে আপনি যত টাকা খরচা করেছেন সেই টাকাটা যদি আপনি ক্রেডিট কার্ডে ৫০ দিনের মধ্যে বা বিলিং সাইকেলের মধ্যে যদি ফেরত দিতে না পারেন, তাহলে যত টাকা আপনি পেমেন্ট করতে পারেননি তার ওপর ব্যাঙ্ক অনেক বড় একটা সুদের অ্যামাউন্ট বসাবে এবং তার পরের মাসে কিন্তু আপনাকে সেই টাকাটা সঙ্গে সুদের অ্যামাউন্টটাও পেমেন্ট করতে হবে। আপনি যদি পেমেন্ট করতে না পারেন তাহলে কিন্তু আপনার ক্রেডিট হিস্ট্রি খারাপ হয়ে যাবে এবং আপনি ফিউচারে আর কোন রকমের লোন বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য এপ্লাই করতে পারবেন না। তো ক্রেডিট কার্ড কিন্তু খুব ভালো একটা জিনিস।এটাকে দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করে চলতে পারলে আপনি অনেক ভালো রকমের ফায়দা লুটতে পারবেন ।

ক্রেডিট কার্ড এর সুবিধা

ক্রেডিট কার্ড এর সবথেকে বড় সুবিধা হলো ক্রেডিট কার্ড থেকে আপনি ৫০ দিনের জন্যে সুদ ছাড়া টাকা থাকে যেটা আপনি নিজের ইচ্ছে মতো ব্যবহার করতে পারবেন। মনে রাখবেন ৫০ দিনের জন্যে আপনার ক্রেডিট কার্ড এর যা লিমিট আছে পুরো টাকাটাই আপনার। ৫০ দিনের মধ্যে আপনি যত টাকা ব্যবহার করেছেন সেই টাকা টা ফেরত দিতে হবে। এছাড়াও আপনি ক্রেডিট কার্ড থেকে এটিএম থেকে টাকা তুলতেও পারবেন কিন্তু এক্সপার্টস রা সাধারণত ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তুলতে সায় দেন না। আপনার কাছে ক্রেডিট কার্ড থাকলে আপনি অনলাইন কিছু কেনা কাটা করলে পুরো এমাউন্ট টাকে আপনি চাইলে EMI তে কনভার্ট করতে পারবেন। আপনার কাছে যদি একটি ভালো ক্রেডিট কার্ড থাকে তাহলে আপনি এই সুবিধা গুলি পেয়ে যাবেন।

ক্রেডিট কার্ড কত প্রকার

ক্রেডিট কার্ড অনেক প্রকার এর হয় থাকে। সাধারণত ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি গুলি ক্রেডিট কার্ড ইউসার এর এক্সপেন্স প্যাটার্ন এর উপর ডিপেন্ড করে ক্রেডিট কার্ড তৈরি করে থাকে। যেমন মানুষেরা ফ্লাইট এ বেশি ট্রাভেল করে তারা অবশ্যই ফ্লাইট টিকেট এ ডিসকাউন্ট এ ব্যাপারে নজর রাখে। যারা বেশি রেস্টুরেন্ট এ খাওয়া দাওয়া করে তাদের রেস্টুরেন্ট বিল এ ডিসকাউন্ট পেলে ভালো। যারা অনলাইন স্পেন্ড বেশি করে তাদের অনলাইন স্পেন্ড এ ডিসকাউন্ট পেলে ভালো এই সব কিছু কে নজর রেখে ক্রেডিট কার্ড ইনস্টিটিউট গুলো ক্রেডিট কার্ড তৈরি করে রাখে।

ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তোলার নিয়ম / ক্রেডিট কার্ড থেকে ক্যাশ

ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তোলা সাধারণত financial adviser suggest করে না। কিন্তু কোনো খুব দরকারে আপনি চাইলে ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তুলতে পারবেন এটিএম মেশিন ব্যবহার করে। আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ড থেকে কত টাকা ক্যাশ নিতে পারবেন সেটার একটা লিমিট থাকে। যদি আপনার ক্রেডিট কার্ড এ ১ লক্ষ টাকা লিমিট হয়ে থাকে তাহলে তার ১০% মানে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ নিতে পারবেন। এই ক্যাশ লিমিট আলাদা আলাদা ক্রেডিট কার্ড এ আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। আপনি ক্রেডিট কার্ড কাস্টমার কেয়ার এর সঙ্গে কথা বলে অথবা ব্যাঙ্ক এর সঙ্গে কথা বলে এই ক্রেডিট কার্ড ক্যাশ লিমিট সম্বন্ধে জানতে পারবেন।

কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো

ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার সময় আপনাকে একটা ভালো রেপুটেড ব্যাঙ্ক অথবা ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন থেকে নেওয়া উচিত। কোন ক্রেডিট কার্ড আপনার জন্যে ভালো সেটা আপনার expense pattern এর উপর ডিপেন্ড করে। আপনার expense pattern অনুযায়ী যেই ক্রেডিট কার্ড এ আপনি সব থেকে আপনি ফায়দা পাবেন সেটাই আপনার জন্যে সব থেকে ভালো ক্রেডিট কার্ড। এই গুলোর সঙ্গে আপনি দেখে নেবেন যে কোনো এক্সট্রা চার্জেস তো নেই ক্রেডিট কার্ড এর জন্যে। কোন ব্যাঙ্ক এর ক্রেডিট কার্ড ভালো জানার জন্যে এই আর্টিকেল টি দেখতে পারেন।

ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার এর নিয়ম

ক্রেডিট কার্ড খুব দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করতে হয়। নাহলে কিন্তু আপনি অনেক বড় financial crisis এর মধ্যে পড়তে পারেন।এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে যে ক্রেডিট কার্ড এ যে লিমিট দেওয়া হয় সেটা সাধারণত আপনার আয়ের থেকে বেশি দেওয়া হয়। আপনি যদি লোভে পারে ক্রেডিট কার্ড থেকে বেশি খরচ করে দেন, তাহলে কিন্তু আপনি ৫০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে পারবেন না। তখন আপনি হয়তো EMI তে কনভার্ট করবেন আর EMI তে কনভার্ট করার জন্যে ক্রেডিট কার্ড এর এক্সট্রা চার্জেস থাকে এবং প্রত্যেক মাসে EMI এর সাথে আপনাকে সুদ এ পে করতে হবে। এই ভাবে আপনার উপর একটা এক্সট্রা ফিন্যাসিয়াল লোড চলে আসবে। এর থেকে বাঁচার জন্যে আপনাকে ক্রেডিট কার্ড খুব দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করা উচিত।

ক্রেডিট কার্ড বন্ধ করার নিয়ম / বন্ধ করার আবেদন পত্র

ক্রেডিট কার্ড বন্ধ করার জন্যে আপনাকে সবার প্রথমে ক্রেডিট কার্ড এর সব পেমেন্ট কমপ্লিট করে দিতে হবে। ক্রেডিট কার্ড এ যেন কোনো বকেয়া রাশি না থাকে। তারপর আপনাকে ক্রেডিট কার্ড কাস্টমার কেয়ার অথবা ব্যাঙ্ক এ ফোন করে আপনাকে রিকোয়েস্ট করতে হবে যে আপনি ক্রেডিট কার্ড টি বন্ধ করতে চাইছেন। আপনি চাইলে ক্রেডিট কার্ড কাস্টমার কেয়ার এ মেল করেও ক্রেডিট কার্ড বন্ধ করার আবেদন পত্র দিতে পারেন। আবেদন দেওয়ার ১ সপ্তাহের মধ্যে আপনার ক্রেডিট কার্ড বন্ধ হয়ে যাবে।

ক্রেডিট কার্ড এ সুদের হার

বন্ধুরা ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল ক্রেডিট কার্ড এর সুদের হার। এটি আগে থেকে জেনে রাখা আপনার জন্য উপকারী। কারণ এটি সরাসরি আপনার ঋণের খরচের সাথে যুক্ত। ঋণ কেন বলছি? কারণ আপনি যদি ভালো করে ভেবে দেখেন ব্যাঙ্ক কিন্তু আপনাকে ৫০ দিনের জন্যে সুদ ছাড়া ঋণ দিচ্ছে। আপনি যদি ওই টাকা ৫০ দিনের মধ্যে ফিরিয়ে দেন তাহলে আপনাকে আর কোনো সুদ দিতে হবে না কিন্তু আপনি যদি ঠিক সময় টাকা ফেরত দিতে না পারেন তাহলে কিন্তু আপনাকে অনেক বেশি সুদ ব্যাঙ্ক কে পে করতে হবে। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এর ক্রেডিট কার্ড সুদের হার ভিন্ন ভিন্ন হয় থাকে। এখানে আপনি সব ধরনের ক্রেডিট কার্ড এ সুদের হার সম্বন্ধে জানতে পারবেন।

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কি কি করা যায়

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করা যায়, উদাহরণ স্বরূপ বলতে গেলে – কেনা-বিক্রয় লেনদেন (Purchase Transactions), নগদ উত্তোলন (Cash Advance), বিকাশ বা চেক লেনদেন (Balance Transfer), EMI চুক্তি (Equated Monthly Installments), ইন্টারনেট শপিং ও বিল পরিশোধ (Online Shopping and Bill Payments), বিশেষ অফার এবং প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় করুন (Availing Special Offers and Features) ইত্যাদি।

ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার করে কোটি টাকা কমানোর উপায়

বন্ধুরা চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কোটি টাকা কামানোর উপায়। আমার কাছে একটা ক্রেডিট কার্ড আছে, এক্সিস ব্যাংকের ফ্লিপকার্ট ক্রেডিট কার্ড। এই ক্রেডিট কার্ডটার একটা বিশেষত্ব হচ্ছে যে আমি মাসে যত টাকা ক্রেডিট কার্ড থেকে খরচ করি তার ১.৫% ক্যাশব্যাক আমার বিলিং সাইকেল কমপ্লিট হবার আগে চলে আসে। মানে আমার প্রত্যেক আমার প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখে বিলিং সাইকেল কমপ্লিট হয় এবং বিলিং সাইকেল শেষ হওয়ার আগে মানে ক্রেডিট কার্ড এর বিল আসার আগে, আমার একাউন্টে প্রত্যেক মাসে যত টাকা স্পেন্ড করেছি তার ১.৫% ক্যাশব্যাক আমার অ্যাকাউন্ট চলে আসে। এবং আমি যদি flipkart থেকে কোন কিছু কিনে থাকি তাহলে যত টাকা শপিং করেছি তার ৫% কিন্তু আমাকে ক্যাশব্যাক হিসেবে দেওয়া হয়। এবার গত দু-তিন বছর ধরে আমি এই ক্রেডিট কার্ডটি ইউজ করছি, প্রত্যেক মাসে আমার মোটামুটি ৩৫০০০ টাকার স্পেন্ড করে থাকি ক্রেডিট কার্ড থেকে। তার মানে ৩৫০০০ হাজার টাকার ১.৫% ক্যাশব্যাক, মোটামুটি ৫২৫ টাকা আমি প্রত্যেক মাসে ক্যাশ ব্যাক হিসেবে পাই, কোনো এক্সট্রা কাজ না করে। আমি কিন্তু এই ৫২৫ টাকা খরচ করি না। আমি এই ৫২৫ টাকা একটা স্মল ক্যাপ মিউচুয়াল ফান্ড এ ইনভেস্ট করে দি।

image 1

স্মল ক্যাপ ক্যাপ মিউচুয়াল ফান্ড লং টার্ম এ মিটামুটি ১৫% এর বেশি রিটার্ন দিয়ে থাকে। উদাহরণ সরূপ আমি Quant Small Cap Fund Direct Plan Growth এর কথা বলছি।

Return calculate mutual fund

আমি যদি এই ৫০০ টাকা আগামী ৩৭ বছর ধরে যদি মিউচুয়াল ফান্ড এ ইনভেস্ট করতে পারি, এবং ১৫% রিটার্ন যদি ধরে চলি, তাহলে রিটার্ন সহ আমার মোট কর্পাস এমাউন্ট হয়ে ধরাবে ১ কোটি টাকা রো বেশি। আপনি হয়তো বলবেন যে ৩৭ বছর অপেক্ষা করতে হবে। হ্যাঁ হবে, তাতে প্রব্লেম কি? এই পুরো টাকাটাই হলো ফ্রি টাকা। আপনি যদি ৩৭ বছর পরে যদি ১ কোটি টাকা ফ্রি তে পে যান, তাতে কি ভালো না মন্দ আপনি বলুন? তো এই ভাবে আপনি ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার করে কোটি টাকা উপার্জন করতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *